
নিহিরা আজ খুব দেরি করেছে ঘুম থেকে উঠতে,বর তৈরী বেরাবার জন্য,কাল খুব মন খারাপ অভিমান নিয়ে শুতে গেছিল,সকালে উঠে সব ভুলে গিয়ে,আবার যেন সব মনে পরে গেল,আবার মন খারাপ,কাল বর পনের দিনের জন্য ফ্রান্স যাচ্ছে,এমনিতেই এই দূর দেশে সবে এসেছে,এখন এক মাসও হয়নি,আবার যেতে হবে,কি করবে সে একা,কাল থেকে দীপ অনেক বুঝিয়েছে তাকে,নিহিরা শোনার মেয়ে না,ওর একি কথা আমাকেও নিয়ে চল,শেষমেষ ঝগড়া আর শুতে যাওয়া।
দীপ আজ দুদিন হল গেছে।সকালে মাকে ফোন শ্বশুর বাড়িতে ফোন করে চা নিয়ে ল্যাপটপে বসলল, স্কুল লাফই'র বান্ধবী মোনালী,ওকে বলেছিল আজ নেট এ বসবে,আজ নতুন অনেক খবর পেল নিহিরা।পারমিতার বিয়ে হয়ে গেছে,অনি নাকি ফেসে গিয়ে কাকে বিয়ে করেছে,শুনে মনটা ছ্যাত করে উলো নিহির। কলজের অনেক কথা মনে পরে গেল,
"কিরে মন খারাপ হল নাকি অনির কথায়?"
"কি যে বলিস….
আচ্ছা চল আজ আমি আসি, পরশু পারলে আসব,থাকিস।"
দীপ যাওয়ার পর থেকে নিহিরার সময় যেন কাটছেই না,কি করবে ভাবতে ভাবতে কলকাতা চ্যাট রুমে ঢুকল,নিহি আগে কখনও আসেনি,খুব শুনেছে বন্ধুদের মুখে।এই হয় ওই হয়,চ্যাট রুম সম্পর্কে নিহিরার কোন অভিজ্ঞতাই ছিল না,এই ক মাস হল বাড়ির সাথে বন্ধুদের সাথে নেটে কথা বলা শুরু করেছে।
নিহি চ্যাট রুমে ঢুকতেই চারদিক থেকে টুংটাং আওয়াজ আসতে শুরু করল।বেশ ঘাবরেই গেল নিহি,কেউ ভাল কেউ জঘন্য সব কথা লিখতে লাগল।সব ইগনর করে নিহি অন্য একটা রুমে ঢুকল,এখানেও একি আবস্থা।
চার পাচঁটা রুমে ঢুকে একটা নামে গিয়ে আটকে গেল নিহি।
'বৃষ্টি যদি কোন পাতা হত…'
বাপরে কি অদ্ভুত নাম,কি বলতে চায়? যেই হোক কে সে? খুব যেন জানতে ইচ্ছে করল নিহির।
নিহির ল্যাপটপের ঠিক মাঝখানে একটা বক্স খুলে গেল,মসেজে বক্সের ওপরে লেখা বৃষ্টি যদি কোন পাতা হত। নিচে লেখা "কি করতে ঝরে পরতে আমার কপালে?"
নিহি ঘাবরে গেল,কি বলছে? তখনই মনে পরল ও আমার আইডি তো বৃষ্টির প্রথম ফোটা।
"হা হা হা.."
"আরে হাসছো যে? "
"তো হাসব না? কে তুমি চিনি না জানিনা ঝরে পরতে যাব কেন?"
"আচ্ছা তুমি খুব কবিতা পড়তে ভালবাস তাই না? যেমন জয় গোস্বামি?"
নিহি ভয়ই পেল, কে, আমাকে চেনে নাকি,,"হ্যাঁ খুব ভালবাসি,কে তুমি? নাম কি তোমার? কোথায় থাকো?"
"ভয় পেয় না আমি চিনিনি তোমাকে।"
"আশ্চর্য্য ভয় পাব কেন? আমি আসছি।"
"কাল আবার এসো প্লিজ অনেক কথা বলার আছে।"
অবাক হল নিহি,চেনেনা জানেনা কি কথা বলবে তাকে.."আমি রোজ আসি না,টা টা।"
"কাল এসো আমার জন্য এসো,হারিয়ে যেওনা।"
নিহি মনে মনে ভাবতে লাগল,কোন পাগলের পাল্লায় পরলাম নাতো,কি অদ্ভুত সব কথা বলছে।
"কাল আসবেতো? আমি পাব কি ভাবে তোমাকে? প্লিজ কথা বল.."
নিহি দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে লাইনটা কেটে দিলল।
নিহি বেশ ঘোরের মধ্যে ছিল,অনকক্ষণ ধরে ভেবে চলেছিল কে ছিল? আমাকে চেনে কি?
ফোনের আওয়াজে চমকে উঠলো নিহি..
ওদিকে দীপের গলা,"কি করছো? রান্না করেছো? খাচ্ছতো? কেমন আছো?"
"উফঃ দাড়াও কোনটার উত্তর দেব,তুমি খেয়েছো তো? উল্টোপাল্টা কিছু খাচ্ছো না তো? শোননা তোমার কি পনের দিনই হবে ফিরতে,আগে হবে না? আজ একটু বেরাবো মিঠাদের বাড়ি,কোনদিক দিয়ে যাই বলতো?"
"এবার আমি কোনটার উত্তর দেব আগে",দুজনই হসে উঠল…
"যাও একটু ঘুরে এসো ভাল লাগবে।"
"হ্যাঁ,এই জানো আজ আমি কলকাতা চ্যাট রুমে ঢুকেছিলাম,
হাসির কান্ড হয়েছে,তুমি এসো তারপর বলবো তোমাকে।"
"আচ্ছা তুমি ক্যাম অন কোরে কথা বল না কিন্তু, এখন রাখছি রাতে আবার ফোন করব।"
"আচ্ছা..সাবধানে থেকো,"
"তুমিও সাবধানে থেকো।"
মিঠার সাথে কথা বলতে বলতে কখন এতো বেজে গেছে কেউ তা খেয়ালি করেনি।বৃষ্টি যদি কোন পাতা হতকে নিয়ে দুজনে খুব হেসেছে,"সত্যি কত রকমের লোক হয়,কাল আমি যাব তোমাদের বাড়ি,মিষ্টি করে বলেছে তুমি থেক প্লিজ",
"তুমি পার সত্যি মিঠা",আবার হাসি………
আজ কিছুতেই ঘুম আসছে না নিহির,বার বার একটা কথাই মাথায় ঘুরছে,কে ছিল?
অনেক দেরি হল আজ উঠতে নিহির,চোখ খুলেই টেবিলে রাখা ল্যপটপে চোখ গেল।হাতমুখ ধুয়ে ঘরের টুকটাক কাজ সেরে চা বানাল।এখন আর কোন কাজ নেই, কি করি? বাড়িতে মায়ের সাথে একটু কথা বলে নিল। কদিন ধরে মার একটাই কথা,"খুব সাবধানে থাবি।দরজা বন্ধ রাখিস,কোথাও একা বেরাবি না", নিহি যত বলে "তুমি চিন্তা করো না",মার একিই কথা।
চা খেতে খেতে নিহি ল্যপটপে এসে বসল।
"আমি জানতাম তুমি আসবে,এত দেরি করলে?"
নিহি বলল "তুমি কে?কোথায় থাকো? কি করো?"
"আমার নাম আশিষ,বেলগাছিয়ায় থাকি, তুমি?"
নিহি শঙ্কায় পরল,নিজের নাম কি বলবে? ঠিক হবে বল? আমাকে সত্যি বলছে কিনা তাও তো জানিনা।
"আমার নাম কথা,এখন নিউইয়র্কে আছি বিয়ের পর থেকে।"
"আমি জানত/ম তোমার এমন কোন নামই হবে।"
"মানে আমার নামে আবার কি আছে?"
"তুমি খুব ভাল কথা বলতে পার সবার সাথে,খুব হাসিখুশী,সবাই তোমার খুব ভাল বন্ধু তাই না? খুব ঘুরতে ভালবাস।"
"সে তো সবাই ভালবাসে নতুন কি তাতে?"
"স্বপ্ন এই একটা কথা তোমার জীবনে অনেকটা জায়গা জুড়ে আছে,নিজের কিছু না পাওয়া জিনিস স্বপ্নের মধ্যে খুঁজে তুমি খুশী থাক তাই না?"
"ভালতো ঢিল ছুঁড়ছো আন্দাজে,তা সবাই কে কি এমনি করই শুরু করো?"
"হা হা…সত্যি বলছি আমি কালই এই চ্যাটরুমে প্রথম এসেছি,আর এসে তোমার আইডিটা দেখে ভাল লাগলো,তাইতো কথা বলতে এলাম।"
"কি করো তুমি?"
"ছট্টোখাট্টো একটা চাকরি আর কি।"
আজ নিহি দীপ ফোন করলে বলবে সব,ভাবতে ভাবতেই দীপ ফোন করল।"কি হল এত খুশী লগছে তোমাকে?"
"কোই নাতো…"নিহি এক নিঃশ্বাসে যেন আজকের সব কথা দীপকে বলে ফেললো।
"তালে তো বেশ সময় কাটছে তোমার,খুব সাবধান,সব যেন বলে ফেল না আবার গড়গড় করে।"
নিহির সকাল বেলাটা বেশ কেটে যাচ্ছে আড্ডা মেরে,নিহি আশিষের অনেক কথা জনে গেছে এত দিনে,খুব গল্প করছে দুজনে।নিহি অনেকবার জিগ্গাসা করেছে,এখনও কেন বিয়ে করেনি? তার একটাই উত্তর দেয় আশিষ তেমন কাউকে পাইনি।আমি ভেবে রেখেছি আমি যাকে ভালবাসবো সে কেমন হবে।তেমন কাউকে পাইনি তো বিয়ে কি করব? যদি তাকে ভালবাসতে না পারি।
নিহি অনেক বলেছে এমন হয়না,তুমি যাকে স্বপ্ন দেখছো,ভাবছো,তার সাথে বাস্তব জীবন কখনও মিলবে না,এসব ভেবে সময় নষ্ট করো না।
আশিষ ততবার বলেছে একবার তাকে দেখেনি…..
অনেক দিন হল নিহি আর আশিষ এই ভাবে চ্যটে কথা বলছে।বেশ কয়ক মাস,আন্দেই কাটছে,নিহির এখন নিউইয়র্ক ভাল লাগে,এত দিনে অনেক বন্ধু হয়ে গেছে। ছুটির দিন গুলো নিহি আর দীপ খব ঘুরে বেরাছে,দীপের কাজের চাপও অনেক কমে এসেছে,আজকল রোজ বিকেলে ওরা বেরাচ্ছে। ইন্ডিয়া ফেরার সময় হয়ে আসল দেখতে দেখতে নিহিদের। কেনাকটা এখন লেগেই আছে,কেউ বাদ পরল নাতো? রোজই তাই নিয়ে ভেবে চলেছে নিহি।শ্বশুর বাড়ি বাপের বাড়ি কেউ বাদ পড়ল নাতো? ব্যাগের গোছগাছও একটু একটু করে শুরু করেছে নিহি। এইসব কাজের মাঝে পাঁচ সাত দিন নেটে বসেনি নিহি।খুব নেশা হয়ে গেছে,না বসলেও ভাল লাগেনা,আগে যেমন সব বলতো নিহি দীপকে,আজকাল অনেক কিছুই বলেনা,কখনও সময় হয় ন তো,কখনও দীপ কিছু মনে করবে ভেবে বলে না।
অনেক দিন বাদেই নেটে আসল নিহি।বেশ কটা অফলাইন মেসেজ,তার মধ্যে একটায় গিয়ে চোখ আটকে গেল নিহির।
অনেকদিন আসনা তুমি,অপেক্ষা করে করে আমি চলে যাই।অনেক কিছু তোমাকে বলার আছে,খুব দরকার।আমি হয়তো আমার জীবন শেষ করতে চলেছি।
নিহি লাইন গুলো পড়ে যেন আতকে উঠল,কি বলছে এসব…….
আজ অনেকক্ষন অপেক্ষা করে নিহি চলে গেল,শুধ অফলাইন দিল কাল আমি থাকব।
আজ সারাটা দিন খুব বাজে গেল নিহির,কিছুতেই যেন মন নেই,বারবার আশিষের কথা মাথায় ঘুরছে,কি বলতে চাইল ও….শুধু ভেবে যাচ্ছিল কখন সকাল হবে,দীপ অনেকবার জিগ্গাসা করেছে কি হয়েছে?কিছু বলতে পারল না।কি বলবে? নেটে একজনের সাথে আলাপ হয়েছে তার জন্য চিন্তা হচ্ছে,সে এসব অদ্ভুত কথা লিখেছে বলে,না না নিহি কিছু বলতে পারল না দীপকে।
নিহি খুব সকাল সকাল অনলাইন হল,না আশিষ এখনও আসেনি,বসল একটু,অনেক বাজে কথাও ভাবছিল বসে বসে।নিহি উঠতে যাবে তখনই আশিষ আসল………
"আছো?"
"হ্যাঁ বল,কি আজেবাজে লিখেছো,কি হয়েছে তোমর? কেন লিখেছো তুমি?"
"কেন তেমার চিন্তা হচ্ছিল?"
"তা হবেনা?এসব কেউ লেখে? বল কি হয়েছে?"
"যাক ভাল লাগলো শুনে,শোন আমি তোমাকে অনেক কিছু বলিনি আমার সম্পর্কে,যা জানতে তা সত্যি না,এমনকি আমি তোমাকে আমার ঠিক নামও বলিনি,আমার নাম দিপ্তেন্দু, আর আমি থাকি এয়ারপোর্ট এক নম্বরের কাছে।"
নিহি কি বলবে ওর নাম আর ঠিকানা জেনে বুঝে উঠতে পারল না।নিহি যেন কথা হারিয়ে ফেলল।অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইল,তারপর বলল "আমিও তোমাকে অনেক কিছু বলিনি,আমার নাম নিহিরা।আমি পরশু ইন্ডিয়ার জন্য রওনা দেব,মানে কলকাতা ফিরছি।"
"ও তালে তুমিও আমাকে সব সত্যি বলনি?"
"না।"
"যাক একটু হালকা হলাম।খুব চাপ নিয়ে বসেছিলাম,আচ্ছা কলকাতার কোথায় বাড়ি তোমার?"
কি বলবে নিহি বুঝতে পারল না,কি করে বলবে আমিও ওখানেই থাকি।না না নিহি কথা ঘুরিয়ে বলল,"তুমি বল তুমি কোথায় থাকো এয়ারপোর্ট এক নম্বরের?"
"চেনো ওই দিকটা?"
"হ্যাঁ ওখানে আমার বন্ধুর বাড়ি।"
"ও..আমি এক নম্বর থেকে একটু এগালে,উল্টো দিকে একটা গলি পরে,ওই গলিতে এক মিনিট হাটলে একটা মন্দির পরে।"
"হ্যাঁ হ্যাঁ শিব মন্দির।"
"সেকি? জান তুমি ? আমার হাত পা কাপঁছে শুনে।"
"বললাম তো ওখানে আমার বন্ধুর বাড়ি।"
"শিব মন্দির থেকে কয়এক পা এগালে ডান দিকের গলিতে চারটে বাড়ির পর।"
"ঐ হলুদ বাড়িটা? ওটাতো আমার বন্ধু মিতাদের বাড়ি।"
"তুমি চেন ওকে?"
"আমরা ছোট থেকে এক সাথে পরেছি।"
"তালে তুমি কোথায় থাকো?"
নিহি কি করে বলে,তুমি ডান দিকের গলিতে আর আমি বাদিকের গলিতে দুটো বাড়ির পর,আমরা একিই সাথে একি পাড়াতে ছোট থেকে বড় হয়েছি।
নিহি বলল "আমি ওইদিকে না।" নিহি খুব চেনার চেষ্টা করল,না চেনে না।ওই বাড়িতে কোন ছেলে আছে তাইতো জানতো না।তারমানে আমরা একই সাথে,একই পাড়াতে এত বছর কাটিয়েছি,অথচ কেউ কাউকে কখনও দেখিনি।
চুপ করে ছিল নিহি,কিছুতেই এই সব কিছু মেলাতে পারছে না।
"আমি অনেকবার ভেবেছি জানও,আমরা কেন এত কথা বলি,মাঝেমাঝে মনে হয় তোমার মধ্যে আমি অনেক কিছু খুঁজে পেয়েছি।"
"মানে?"
"এই দেখ খুবই তুচ্ছ তাও,আমার আইডি যেমন বৃষ্টি যদি কোন পাতা হত,আর তোমার বৃ্ষ্টির প্রথম ফোটা।বৃষ্টি আমাদের জীবনে অনেক কিছু তাই না?এই দেখোনা আমি ভাবি,আমি যাকে স্বপ্ন দেখি তার আর আমার একটা ফুটফুটে মেয়ে হবে। ওর নাম রাখবো অর্ণা।"
নিহি চমকে উঠলো,কি বলছে এই সব,আমার মনটা চিনল কি করে?কালই নিহি দীপকে বলেছিল,আমাদের মেয়ে হলে নাম রাখবো অর্ণা। কে ও? আমাকে কি চেনে? কি করে এমন হয়?
নিহি অনেক কষ্টে নিজেকে সমলালো।"আচ্ছা বল এবার তুমি নিজেকে শেষ করতে চলেছো,এসব লিখলে কেন?"
"হ্যাঁ তাইতো করছি।সব বলব,আমি খুব ভেবেছিলাম,আমি যাকে আমার স্বপ্নে একটু একটু করে গড়ে তুলেছি তাকে একবার দেখতে,এখন মনে হচ্ছে তুমিই সত্যি,বাস্তবে এমন হয়না।"
"যাক বুঝেছো তালে,হা হা….আজ বলত তুমি কাকে এত স্বপ্নে দেখো,কে সে?"
"বলব সব বলবো,জান আমি খুব ভাবি আমি যাকে বিয়ে করব ভালবাসবো সে কেমন হবে।কি করবে।"
"তাই? তা সে কি করবে?"
"খুব ভাবি তার লম্বা চুল হবে,কোনদিন বৃষ্টিতে ভিজে আমার সামনে এসে দাড়াঁবে,থরথর কর কাঁপবে তার ঠোঁট দুটো।"
"উফঃ…এত সিনেমা।"
"দেখছো এই জন্যতো কিছু বলিনি এতদিন।"
"আচ্ছা আচ্ছা বল।"
"জান আমি যেন সব সময় ওকে চোখের সামনে দেখতে পাই, আমি ডাকলে সে সাড়া দেয়,কখনও সে বাচ্চাদের মত,আমি কত কথা বলি তার সাথে।আমি যাকে পাগলের মত ভালবাসি,তাকে নিজের মত করে গড়েছি।
ওর গালে একটা তিল আছে,ওর দিকে তাকালেই আমি দেখতে পাই।"
নিহি নিজের অজান্তেই গালের তিলটার ওপর হাত রাখলো।
দিপ্তেন্দু বলতে থাকলো "জান ওর ঠিক বাঁ কাধে একটা তিল আছে,একদিন হয়ত ওর অসাবধানতায় আমি দেখে ফেলেছি।"
নিহি কোন কথা খুঁজে পেলনা,শুধু বলল "আর……"
ও সব সময় ওর লম্বা চুল ছেড়ে রাখে।ও খুব কাজল পরতে ভালবাসে,তখন ওর চোখ দুটো আর সুন্দর লাগে।ওর চোখ খুব কথা বলে,মনের সব কথা যেন ওর চোখ বলে দেয়।জানও ওর চোখে সবসময় যেন জল টলটল করছে।
নিহি অবাক হল,ভয় পেল,কে ও?দীপ তো অনেকবার বলেছে তোমার চোখ যেন কথা বলে,তোমার চোখে জল কেন?
আমার সাথে কি ও ঠাট্টা করছে? আমাকে কি চেনে জানে? নইলে এমন হয় কি করে?
দিপ্তেন্দু বলতে থাকল,"ও বৃষ্টি খুব ভালবাসে,বৃষ্টির সাথে ও আপন মনে খেলে চলে।"
নিহি এতটাই বৃষ্টি পাগল যে রাত এগারটার সময়ও দীপকে বাধ্য করেছে ছাদে নিয়ে যেতে ভিজবে বলে।
দিপ্তেন্দু আর বলল, "সবসময় ওর মুখে হাসি লেগে আছে,যান ওর বুকে একটা তিল আছে।"
নিহি ছিটকে উঠে গেল চেয়ার থেকে,থরথর করে কাপছে নিহি,কে এমন করছে ওর সাথে? নিহি ভেবে পাচ্ছে না,কে? কি করে এমন হতে পারে।
দিপ্তন্দু বলল,"কি হল কথা বলছো না কেন?"
নিহি বলল "কে তুমি? কেন করছ আমার সাথে এমন?"
"মানে? আমিতো আমার মনের কথাই বলছি। তোমাকে তো…….."
দুজনেই চুপ বেশ কিছুক্ষণ..
"তুমিই কি সে যাকে আমি এতদিন খুঁজে বেরিয়েছি? নিহিরা প্লিজ কথা বল,তোমার কথার ওপর আমার সব কিছু নির্ভর করছে..কথা বল…আমি আজ কোন জায়গায় দাড়িয়ে আছি তুমি বুঝতেও পারছো না।"
কোন কথা বলতে পারছেনা নিহি,দিপ্তেন্দুর প্রত্যেকটা কথা ঠিক। নিহি যেন নিজেকে আয়নার সামনে দাড়িয়ে দেখছে।
"নিহিরা তুমি জাননা পরশু আমার বিয়ে। তুমি রওনা দেবে,আর আমি তখন বিয়ের পিঁড়িতে।জানিনা কি করে সব সামলাবো।তোমর উত্তর আমাকে নতুন জীবন দেবে বলতে পার,এই ভেবে সব নতুন করে শুরু করব যে আমি ভুল ছিলমনা, আমার স্বপ্ন সত্যি।
আমি কথা দিচ্ছি আমি নতুন করে সব শুরু করব,তুমি একবার বল তুমিই সে?যাকে আমি এত খুঁজেছি?"
নিহি স্তদ্ধ হয়ে বসে রইল,ঠিক তিন বছর আগে এই তারিখেই নিহির বিয়ে হয়েছিল ।
নিহিরা কথা বল আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি।
অনেকক্ষণ বাদে নিজেকে সামলে,নিহি বলল…"অনেক দেরি করে ফেলছো তাকে খুঁজে পেতে,নতুন করে সব শুরু করো,জীবনে সুখী হওয়া তোমার ওপর,,আমার এই কথাটা রেখো।খুব ভাল থেকো।"
উত্তরের অপেক্ষা না করে,নিহি লাইন কেটে দিল।ল্যাপটপ বন্ধ করল।
নিহি উঠে আয়নার সামনে দাড়াল,নতুন করে যেন নিজেকে চিনল….অবাক হল………
নিহিরা ফিরেছে এক বছরের বেশী হয়ে গেছে।এতবার বাপের বাড়ি গেছে,কিন্তু আজও জানেনা ওই বাড়িতে কোন ছেলে আছে।কখনও সাহসও হয়নি কাউকে জিগ্গাসা করার। নিহি জানে, দিপ্তেন্দুকে দেখলেও চিনতে পারবে না।কিন্তু দিপ্তেন্দু?ও তো নিহিকে দেখলেই চিনে ফেলবে। নিহিকে হয়ত সারাজীবন এই আতঙ্ক নিয়ে থাকতে হবে বাপের বাড়ি গেলে দিপ্তেন্দু তাকে দেখে না ফেলে।
আমি সোমা।
আছি এখন ব্যাঙ্গালোরে।
বাড়ির আদরের মেয়ে ও বোন আমি, তারপর বিয়ে, নতুন জীবন শুরু, আমার ছেলের আমার জীবনে আসা, সব যেন পেয়ে যাওয়া। এখন ছোটৃ্ সংসার আমার ছেলে আর স্বামী নিয়ে, রোজই দুচোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে আমার এগিয়ে চলা। সবাইকে নিয়ে হাসিখুশী থাকা, সবার মুখের হাসি টুকু দেখে খুশী থাকা। আর কি চাই...
waah khub sundor likhrcho... jhub bhalo laglo pore
ReplyDeletedarun likhecho tumi..tomar ei gun ache jantam na.ami jano to golpo ta porte porte ekbar bhabchilam bodhoy nihira r bor i hobe nahole purono boyfriend :)
ReplyDeletekhub odbhut kintu ekta bastob bishoy nirbachon korechhis soma.. sheshta ki hobe eta niye shesh porjonto ekta koutuhol thekei giyechhilo, jeta ei golper plus point bole amar mone hoyechhe..
ReplyDeleteপ্রথম থেকে শেষ অবধি গল্পটা এক নিশ্বাসে পড়েছি, টানটান উত্তেজনা ছিল,খুব সুন্দর
ReplyDeleteore sona bhison bhalo likhechis re....aro onek onek erokom i bhalo lekha pabar ashay roilam tor kach theke
ReplyDeletekhuub sundor golpo. sesh porjonto pathok er akorshon o monojog bojay rekheche. :)
ReplyDeleteDarun hoyechhe re.... ek nihswase pore phellam
ReplyDeletedaruun hoyechhe lekhata.
ReplyDeletekhub bhalo laglo.
ReplyDeleteBhisaaan bhalo laglo. Ek niswase ses korechi.
ReplyDeletedarun likhechish ...
ReplyDelete