
ইস্,একটুর জন্য মিস হয়ে গেল। আবার রেড সিগন্যাল।আর তো বেশিদূর নয়,এমনিতেই অফিস থেকে বেরোতে দেরি।যেদিনই দেরি সেদিনই সব সিগন্যাল-এ দাড়াতে হবে।মনেমনে বলে ঘড়িটা একবার দেখে নিল সুমিতা, প্রায় ৮টা বাজে।তিমির ফোন করেছিল,বাড়ি ফিরে গেছে। আর একদিন বাদে ওদের ৩য় বিবাহবার্ষিকী,তারই টুকিটাকি কেনাকাটা ছিল আজ।কিন্তু অফিস গিয়েই জানল মিটিং-এর কথা,তাই cancel করে দিতে হল shoppingটা।আবার একটা সিগন্যাল পেরিয়ে এগিয়ে গেল সুমিতা কালো santro চালিয়ে। আরে রে রে ‘উফ্’ একরাশ বিরক্তি নিয়ে বলল।শেষটাতেও দাড়াতে হল।খুব ব্যস্ত রাস্তা আজকে,কোনদিনই বা কম থাকে।তবে আজ যেন একটু বেশিই।তার ওপরে দিল্লীর গরম।সব জানলাই বন্ধ,A.C চলছে।
পাশের carএর জানালাটা খুলে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে কেউ।চোখ গেল সুমিতার।নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারছিলনা সে।নজর আটকে গিয়েছে,মনকে বারবার বোঝাতে চেষ্টা করছে,না এ সে নয়।কিন্তু চেনার কোনো ভুল হয়নি তার।কেমন তোলপাড় হচ্ছে বুকের ভেতর।চমকে উঠল পেছন থেকে হর্ণের আওয়াজে।পাশের গাড়িটা চলে গেছে।কোনোভাবে নিজেকে সামলে বাড়ি পৌছোলো সুমিতা।
‘বেশ দেরি হয়ে গেলো তোমার আজ,বসো কফি করি’ তিমির যত্ন করে বলল।তিমিরের কথাগুলো শুনলেও মাথা নিচ্ছিলনা,জানেনা কি করবে।
‘শোনো মাথা ধরেছে,ভালো লাগছেনা,একটু শুতে চাই’ বলল সুমিতা।তিমির ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আলতো গলায় জিজ্ঞেস করল ‘সব ঠিক আছে তো সুমি?’
‘কিছুনা একটু শুলেই ঠিক লাগবে’।
কথা বাড়ায়না তিমির, ‘o.k কিছু লাগলে ডেকো study তে আছি’।
বেডরুমের attach বাথ্রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল সুমিতা,বেসিনের কল খুলে দাঁড়িয়ে,আয়নায় তাকালো,অবসন্ন মন,শরীরেও আর জোর পাচ্ছেনা।আয়নাতে মুখটা ঝাপসা হয়ে এল,মূহুর্তের মধ্যে কান্নায় ডুবে গেল সে।
২
সুমিতা মিএ,বিয়ের আগে সুমিতা সেন,জয়েন্ট এন্ট্রান্স এ ভালো rank করে শুরু হয়েছিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া।কম্পিউটার নিযে পড়ার ইচ্ছে ছিল প্রথম থেকেই।কলেজেই আলাপ হয় আমানের সাথে।এক বছর সিনিয়ার ছিল।খুব ভালো ছাত্র।পড়াশুনো ছাড়াও খেলায় ও গানবাজনাতে নাম ছিল কলেজে।বেশিদিন লাগলনা সুমিতার আমানকে ভালো লাগতে। সেই ভালোলাগা ভালোবাসার রূপ নিল এক কলেজ ফেস্টে একসাথে প্রোগ্রাম করার সময়।সবক্ষেত্রেই ওদের ভাবনাগুলো ভীষন মিলত।যে জায়গাতে গিয়ে ওদের অমিল বের করা হয়েছিল,যা কখনও দুজনে ভাবেওনি,তা হল ওদের ধর্ম।সুমিতার বাড়ি থেকে ভীষণ আপত্তি করা হয়েছিল।সুমিতার অনেক চেষ্টা,ধৈর্য,প্রার্থনা এবং আমানের ভালো চাকরি,ভালো পরিবার দেখে তার বাবা-মা মত দিয়েছিলেন শেষে।
৬মাসের মধ্যে সুমিতার পড়া শেষ হবে আর বিয়ে করে আমান এর সাথে চলে যাবে আমেরিকা,ঠিক হয়ে গেল সব। আমান আমেরিকা চলে গেল। সব টেনশনের ইতি,তখন শুধু স্বপ্ন দেখার পালা।ই-মেল, ফোন, পড়াশুনো নিয়ে খুব তাড়াতাড়ি কেটে গেল সময়টা।শুরু হল বিয়ের তোড়জোড়,কেনাকাটা।
এত খুশির জোয়ারে তুফান এনে দিয়েছিল সেই মর্মান্তিক খবরটা। প্রতিটা নিউজ চ্যানেলে একটাই খবর,আমান গ্রেফ্তার হয় টেররিজম এর চার্জে।সব স্বপ্ন ভেঙে গেল।রাগ,দুঃখ,অভিমান-না জানি কত অনুভূতির মিশ্রন ঘটেছিল তখন।বিশ্বাস করতে না চাইলেও মেনে নিতে হয়েছিল সুমিতাকে।
দেরি না করে সুমিতার বাবা তার বিয়ের ব্যবস্থা করে দিলেন তাঁরই বন্ধুর ছেলে তিমির এর সাথে।কি করা উচিত আর কি নয়,তা ভাবার অবস্থা সুমিতার ছিলনা।বিয়েটা হয়ে গেল। তিমির খুব ভালো মানুষ,সুমিতার মন জয় করতে বেশীদিন লাগেনি। বিয়ের ৬মাস পরে জানা গিয়েছিল আমান নির্দোষ,এক কাছের বন্ধুর দোষে ধরা পড়েছিল,পুলিশ ক্ষমাপ্রার্থী। ভীষণ খুশি হয়েছিল সুমিতা,অনেক ইচ্ছে ছিল আমানের সাথে দেখা করার।কিন্তু বিধিলিপি ভেবে নিজেকে বুঝিয়ে নিয়েছিল,আর প্রার্থনা করেছিল আমানের জন্য।আমানও আর যোগাযোগ করেনি।
দিল্লীর flat,সুমিতা-তিমির দুজনের ছোট্ট সংসার,সুখী দাম্পত্য জীবন দিয়ে গড়া সুখের নীড় ওদের।পুরোনো স্মৃতিগুলোকে মুঝে এগিয়ে চলছিল সুমিতা, আজএতদিন পরে কেন দেখা দিল আমান?আমানকে দেখে আজ নিজেকে দোষী মনে হচ্ছিল সুমিতার।নিজের ভালোবাসাকে একটা সুযোগ না দেওয়ার জন্য,অপেক্ষা না করার জন্য।
ধীরে ধীরে টোকা পড়ল দরজায়, ‘সুমি, সুমি’-তিমিরের আওয়াজ।দরজা খুলে সুমিতা কান্নায় ভেঙে পড়ে তিমিরের কাঁধে মাথা রেখে।দু’বাহু দিয়ে আগলে নেয় তিমির।
আজ 24th জুলাই,সুমিতা-তিমির এর তৃতীয় বিবাহবার্ষিকী।বন্ধুদের কলরবে,হাসি,ইয়ারকি,গানবাজনায় ভরে উঠেছে ঘর।কাল থেকে তিনদিন ছুটি নিয়েছে দুজনে।বেড়াতে যাচ্ছে সিমলা।সবাই-এর থেকে দূরে শুধু দুজনে একান্তে সময় কাটাতে।।
আমি সুদেষ্ণা। এখন ইউ কে-র বাসিন্দা। নাচতে ভালবাসি, ভালবাসি গান শুনতে। বন্ধুত্ত্ব করতে আর আড্ডা দিতে খুব ভালবাসি। বাংলার বধূ-র কাছ থেকে অনেক ভালবাসা আর বন্ধু পেয়েছি। বি বি কে আমার বড় নিজের বলে মনে হয়।
সকল কে জানাই শারদীয়ার শুভেচ্ছা।
khub bhalo laglo sudeshna tomar choto golpo... erokom aro onek golper asai roilam bhobissoteo
ReplyDeleteSudeshna.. tomar ei chhotto lekhata khub monkara.. etto olpo kothay khub sundar bhabe ekjoner jiboner anekta kahini futiye tulechho.. well done dear..
ReplyDeletekhub valo likhecho go....
ReplyDeletedarun laglo lekhata...
ReplyDeleteখুব ভালোলাগল ছোট্টো গল্পটা,আগামী দিন তোমার আরো লেখা নিশ্চয় পাব
ReplyDeletebhalo laglo golpota Sudeshna.
ReplyDeletebesh laglo 'ek Tukro smriti' :)
ReplyDeletetomar golpo ta pore khub bhalo laglo
ReplyDeletegaye kata diye othar moto
khubbhalo laglo golpota pore........
ReplyDeletemon ta chuye galo...sotti-e khub bhalo laglo.....
ReplyDelete