Monday, August 31, 2009

ইয়েলোস্টোন





“বিস্ময়ে তাই জাগে,জাগে আমার প্রান”।কবিগুরুর এই কথাটি আমার এবারের ভ্রমনকাহিনির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।আমেরিকায় এসে প্রথম ভ্রমন নায়াগ্রা,পৃথিবীর বৃহত্তম জলপ্রপাত।মুগ্ধ হয়ে গেছিলাম নায়াগ্রার রূপ দেখে।তারপর থেকেই ভাবছিলাম এমন একটা জায়গার কথা যেখানে শুধু প্রান ভরে দেখব আর মন ভরব অজানা তথ্যে। তারপর একদিন আমাদেরই এক বাংলার বধু [অনামিকা] আর আমরা একসাথে YELLOWSTONE NATIONAL PARK যাব ঠিক করলাম।একাধারে আগ্নেয়গিরি আর বন্যপ্রাণী দুটোই দেখা যাবে।৩রা জুলাই আমরা শিকাগো থেকে প্লেন এ করে পৌছলাম SALT LAKE CITY।আমাদের বন্ধুরাও যে যার জায়গা থেকে পৌছে গেছে।ওখান থেকে আমরা ৯জন দুটো গাড়ি ভাড়া করে YELLOWSTONE এর দিকে রওনা হলাম।

যাবার পথে আমরা IDAHO FALLS দেখলাম।সারাদিন এখানে কাটিয়ে রাতে পৌছালাম vacation rental এ।আর একটা রাত ।তারপরই দেখব আমেরিকা-র সর্বপ্রথম NATIONAL PARK

YELLOWSTONE NATIONAL PARK----[৪ঠা জুলাই]...১৮৭২ সালে WYOMING,MONTANA,আর IDAHO এই তিনটে জায়গা নিয়ে পার্কটি গঠিত হয়।৮৯৮০ বর্গকিলোমিটার এ YELLOWSTONE CALDERA , একটা VOLCANO কে কেন্দ্র করে এই পার্কটি তৈরি হয়।এটি একটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরি। বহু বছর আগে অগ্নুতপাত হয়েছিল।তার নিদর্শন পাওয়া যায় চারিদিকে নানা রঙের পাথরে।জলন্ত লাভা আর ম্যাগমা যেখান দিয়ে গেছে সেখানে এখন পাথরে সেই রং।লাল,নীল,হলুদ,সবুজ,নানা রং।যেন প্রকৃতি আপন খেয়ালে তুলির টানে বোঝাতে চেয়েছে তার চেয়ে বড় শিল্পী আর কেউ নেই।উত্তপ্ত ম্যাগমা এখনও চালু রেখেছে এখানকার HOT SPRING,GEYSERS,FUMEROLES আর MUDPOT গুলকে।অসংখ্য LAKE,,,GEYSER,,,HOTSPRING,,CANYON,,RIVER,WILD LIFE এগুলই এখানকার মূল আকর্ষন।তবু কোথায় যেন মনের ভেতর অদ্ভুত ভয় বা বলা যায় উত্তেজনা কাজ করছিল।GEYSER গুল কে দেখে বারবার মনে হচ্ছিল পায়ের তলাটা যদি এখনি কেপে ওঠে,জলন্ত লাভা বেরিয়ে আসে।প্রচন্ড শব্দে চারিদিক ফাটিয়ে আগ্নেয়গিরি টা যদি আবার জেগে উঠে বলে দেখে যা আমার ভয়ঙ্কর সুন্দর রূপ!!!সত্যি, ছোটোবেলায় যে আগ্নেয়গিরি-র কথা পড়েছিলাম আজ আমি সেখানে দাঁড়িয়ে।প্রতি বছর প্রায় ২০০০-৩০০০ ভুমিকম্প হয় এখানে।যার অধিকাংশ সাধারন মানুষের অনুভুত হয়না। অনেকগুলি দাবানলের ও সাক্ষী এই পার্ক।চারপাশ পাহাড় আর জঙ্গলে ঘেরা।চারিদিক যেমন সবুজ তেমনি অসংখ্য পোড়া গাছ ছড়িয়েছিটিয়ে আছে।GRIZLY BEAR,WOLVES,BISON,ELK,BLACK BEAR,COYOTE,AMERICAN WHITE PELICAN,EAGLE,OSPREY এরকম অনেক জন্তু আর পাখি রয়েছে চারপাশে।আমার ছেলে ভাল্লুক দেখবে বলে লাফাচ্ছে।যদিও প্রতি বছর এখানে BISON আর BEAR এর আক্রমনে অনেক দর্শণার্থী নাকি আহত হন।
আমরা শুরু করলাম পার্ক এর দক্ষিণদিক থেকে।প্রথমেই গেলাম MADISON GEYSER BASIN.। এখানে অনেকগুলো GEYSER,MUDPOT আছে।এখানে ৮ মাস আগেই একটি hot spring জেগে উঠেছে।কি ভয়ঙ্কর তার আওয়াজ।মনে হচ্ছে যেন ওই জ্বালামুখটির ভেতরে কি ভয়ানক কর্মকান্ড চলছে।মাটির তলার গর্জন শুনে মনে হচ্ছে এক্ষুনি সবকিছু বেড়িয়ে আসবে।এখানে চারিদিকে আমরা শুধুই H2S এর গন্ধ পেলাম।প্রতিটি দেখার জায়গায় লম্বা করে কাঠের রাস্তা তৈরী করা।এর ওপর দিয়েই কেবলমাত্র হাটা যাবে।চারপাশে ছাই এর মত সব পড়ে আছে।আর আছে “do not enter, thermal area” লেখা board।এখান থেকে আমরা গেলাম OLD FAITHFUL।.এই GEYSERটির জলের উচ্চতা ১০৬ফুট থেকে ১৮০ফুট পর্যন্ত হয়,৩৭০০-৮৪০০গ্যালন জল বের হয় প্রতিটি eruption এ।চারপাশের জল যখন ভূগর্ভে চলে যায়,জ্বলন্ত ম্যাগ্মা-র সংস্পর্শে এসে প্রচন্ড গরমে এই জল আবার ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি চলে আসে, ভূগর্ভের প্রবল চাপে খুব ছোট জায়গা দিয়ে এই গরম জল SPRING এর আকারে যেন ছিটকে বাইরে বেরিয়ে আসে।একটা নির্দিষ্ট সময় অন্তর এর eruption হয় বলে,park ranger রা খুব সহজেই এর সময়টা বলতে পারেন।বহু বছর ধরে এই ধারা অব্যহত।তাই এর নাম OLD FAITHFUL।

এরপর YELLOWSTONE LAKE । এটি উত্তর আমেরিকা-র বৃহত্তম পরিস্কার জলের পাহাড়ী হ্রদ।সমুদ্রপৃস্ঠ থেকে ৭৭৩২ফুট উচুতে এই হ্রদটির গভীরতম স্থানটি হল ১৩৯ফুট গভীর।december থেকে may মাস অবধি এটি বরফে ঢাকা থাকে।এই lake এর কাছেই আছে WEST THUMB, geyser, hotspring ইত্যাদি থেকে যে জল বের হচ্ছে ,তা এই lake এ এসেই মিশছে।২০০৪ সালের গবেষনা থেকে দেখা গেছে যে এই lake টি উল্লেখযোগ্যভাবে ওপর দিকে উঠে আসছে।“ After the magma chamber ,under the Yellowstone area collapsed 600,000 years ago in its previous great eruption, it formed a large caldera ,that was later partially filled by subsequent lava flows . Part of this caldera is the 136 square mile (352 km²) basin of Yellowstone Lake. The original lake was 200 feet (60 m) higher than the present-day lake, extending northward across Hayden Valley . to the base of Mount Washburn .

আগে এই lake টি snake river এর মাধ্যমে দক্ষিণে প্রশান্ত মহাসাগরের সাথে মিশত।বর্তমানে এটি উত্তরে Yellowstone নদীর সাথে গিয়ে মেশে।

এরপর BLACK SAND BASIN। উজ্বল রঙ এর SUNSET LAKE আর EMERALD POOL photographer দের আকৃষ্ঠ করে।BUISCUIT BASIN এ যেসব minerals বহির্গত হয় ,সেগুলি বিস্কুট এর আকার ধারন করে।MADISON থেকে NORRIS এর দিকে যেতে GIBBON FALLS দেখে নেওয়া যায়।

দ্বিতীয় দিন আমরা গেলাম YELLOWSTONE এর উত্তর দিকে।চারিদিক এত সবুজ যে কে বলবে,এটা একটা আগ্নেয়গিরি ??যতদুর চোখ যায়,শুধুই সবুজ উপত্যকা,পাহাড়ের মাথায় বরফ আর বেশ কিছু পোড়া গাছ।একটু একটু বৃষ্টি পড়ছে।পাশ দিয়ে কুলুকুলু রবে YELLOSTONE নদী বয়ে চলেছে।এখান দিয়ে যাবার সময় আমার খুব আমাদের দেশের তিস্তা-র কথা মনে পড়ছিল।এখানেই পাহাড়ের ওপর দেখলাম,আমার ছেলের বহু প্রতীক্ষিত বন্ধু GRIZZLY BEARকে। সে তখন দিবানিদ্রা যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে।সুতরাং তার সাথে আর আলাপ করার সময় হলনা।পথে অনেক হরিণ দেখলাম।গোটা YELLOWSTONE এ অনেক BISON আর ELK দেখেছি।তারা ইচ্ছেমত গাড়ীর সামনে এসে হেলতেদুলতে রাস্তা পার হয়।যেন বলতে চায়,এটা আমাদের এলাকা,এখানে আমরাই রাজা,পথিক তুমি পথ ভুলে এসেছ,তফাত যাও।

এরপর আমরা গেলাম MAMMOTH HOT SPRING এ।এটি UPPER TARRACE আর LOWER TERRACE এই দুটি ভাগ এ বিভক্ত।At Mammoth, a network of fractures and fissures form the plumbing system that allows hot water from underground to reach the surface. The water comes from rain and snow falling on the surrounding mountains and seeping deep into the earth where it is heated. Small earthquakes may keep the plumbing open. Limestone, deposited here millions of years ago when a vast sea covered this area, provides the final ingredient . Carbondioxide মিশ্রিত গরম জল carbonic acid এর একটা দুর্বল মিশ্রন তৈরী করে,যা পাথরের সংস্পশে এসে calcium carbonate এ পরিণত হয়।ভুপৃস্থে এই calcium carbone ,travertine এর আকারে Mammoth hot spring এর Terrace তৈরি করেছে।এই জায়গা টি নিজের চোখে না দেখলে কারো বিশ্বাসই হবেনা,প্রকৃতি নিজে কত বড় শিল্পী।এখানে আছে MINERVA TERRACE, CLEOPATRA TERRACE, NEW BLUE SPRING ,MOUND & JUPITER TERRACE ,PROSPECT SPRING ,CANARY SPRING ,ANGEL TARRACE, WHITE ELEPHANT TERRACE ইত্যাদি।

শেষ দিন আমরা পুরো YELLOWSTONE এ যা যা বাকি ছিল তাই ঘুরে দেখলাম।প্রথমেই গেলাম NORRIS BASIN. । অপুর্ব সুন্দর না ভয়ঙ্কর সুন্দর বলে ব্যখ্যা করব বুঝতে পারছিনা।৬,৪০০০০ বছর আগে এখানে যে eruption হয়েছিল,তা এখনো অনুভব করা যায়।চারিদিকে শুধু ধোয়া ।যেন ছাই চাপা আগুন।এখানে আমরা যে কাঠের রাস্তা দিয়ে হাটছিলাম,তার তলা দিয়েও ধোয়া বের হচ্ছিল।সত্যি বলব,বেশ ভয় করছিল।এখানে পাশের যে ছাই গুলো আছে,তার পাশেই অনেক পোড়া গাছ পড়ে আছে।আর board এ লেখা আছে,কিছু অতি কৌতুহলী লোক এর মধ্যে হাত দিয়ে কতটা গরম পরীক্ষা করতে গেছিল,ফল হল এখানে ২৫-৩০ জনের ভয়ানক হাত-পা পুড়ে গেছে।আর ১২ জনের সলিল সমাধি হয়েছে।অনেকবার আমার মনেও এসেছিল একটু হাত দিয়ে দেখিনা,কতটা গরম?কিন্তু সাহসে কুলোয়নি।এরপর গেলাম GRAND TETTON NATIONAL PARK.। চারিদিক পাহাড় দিয়ে ঘেরা বড়ো একটা LAKE। আমরা প্রায় সুর্যাস্তের সময় গেছিলাম ।তাই পাহাড়ের পেছনে সুর্যের সাথে লুকোচুরি, দারুন কাটল আমাদের সময়।এবার বাড়ি ফেরার পালা।চোখে গভীর বিস্ময় আর মনে অনেক প্রশ্ন নিয়ে আমরা YELLOSTONE ছাড়লাম।আমার ছেলে এখন অনেক ছোটো।শুধু বাইসন,হরিন আর ভাল্লুক ছাড়া আর হয়ত কিছুই ওর মনে থাকবেনা।কিন্তু আমি সারাজীবন এটা ভেবেই আনন্দ পাব যে পৃথিবীর অনেক আশ্চর্যই আমার অধরা/অদেখা থাকবে।কিন্তু অন্তত একটাতো আমি নিজে দেখলাম আর অনুভব করতে পারলাম!!!!আবার কবিগুরুর কথায় বলি-“জানার মাঝে অজানারে করেছি সন্ধান, বিস্ময়ে তাই জাগে আমার প্রান”

আত্রেয়ী চন্দ্র
আমেরিকা










এই সংখ্যার অন্যান্য ভ্রমণের গল্প :

অরণ্যের ক'দিন

হিমাচলে হারিয়ে যাওয়া

হর কি দুন

5 comments:

  1. darun laglo tomar bhromon kahini pore..porte porte mone hochhilo jeno pouchhe geche yellowstone e..ebare mone hoy amader o plan korte hobe sekhane jabar jonno. :)

    ReplyDelete
  2. khub sundor vabe likhecho....khub valo laglo pore... :)

    ReplyDelete
  3. YELLOWSTONE ghure elam tomar lekhar sathe

    ReplyDelete
  4. khub romanchokor jayga mone hochchhe...jabar basona roilo....shundor bornona...

    ReplyDelete
  5. lekhata khoob sundor hoyeche re...khoob lively...GREAT JOB!!!!!

    ReplyDelete